Abu Nayeem Talukder

Public Relation Secretary

দেশ-বিদেশে ‘বিশ্ব মানবাধিকার ভিশন’ আইনের শাসন ও সর্বস্তরের মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ মানবাধিকার উন্নয়ন, বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণে নিবেদিত একটি স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠান। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সর্বস্তরের মানুষের নিপীড়ন, নির্যাতন বিরোধী তথা অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশে চার যুগ পূর্বে মানবাধিকার চালু হলেও এখনও পর্যন্ত সত্যিকারের প্রকৃত মানবাধিকার উন্নয়ন, সুরক্ষা ও বাস্তবায়ন হয়নি ? তাই আমাদের ‘বিশ্ব মানবাধিকার ভিশন’ নতুন আঙ্গিকে নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠিতি হলেও এর প্রয়োজনীয়তা বর্তমান বিশ্বে অনস্বীকার্য। যার প্রয়োজনীয়তা কেবল মাত্র নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষরাই অনুভব ও উপলব্ধি করতে পারেন। আসুন আমরা সেই সকল অধিকার বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়াই, তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্ছার হই এবং পূণঃপ্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করি। তবেই দেশ ও বিশ্ববাসীর মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে আশাকরি।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, জাতিসংঘ সংস্থা-ইউনেস্কো, ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস, আফরিকান কমিশন অন হিউম্যান এন্ড পিপলস্ রাইটস্-এর মতো ‘বিশ্ব মানবাধিকার ভিশন’ একই সাথে সমন্বিত ভাবে কাজ করে যাবে সমগ্র বিশ্বময়। সেই আলোকে আগামী দিনের লক্ষ্য, আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে-ই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের ‘বিশ্ব মানবাধিকার ভিশন’ । প্রতিনিয়তই আমরা দেখতে পাই, মানবাধিকার লংঘন ও মানবতাহীন ভাবে আমাদের মানব সভ্যতা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। যেমনটা জেনেছি আদিম যুগ হতে ১৪০০ বছর আগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর সময়েও ধর্ম, বর্ণ ও দূর্বল জাতি ও জনগোষ্ঠীর উপর অন্যায়ভাবে যুলুম-অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়ন ও হত্যার মত ঘটনা সংঘঠিত হয়ে মানবাধিকার চরমভাবে লংঘিত হয়ে আসছে। আজও আধুনিক মানব সভ্যতার যুগেও তেমন নির্মম ঘটনার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার লংঘিত হয়ে থাকে, যা কখনও সচেতন ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে আমাদের কাম্য নয়। যে কারণে মানব সভ্যতায় ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে শৃঙ্খলা, শান্তি ও সর্বোপরি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও অপরিসীম গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এই ‘বিশ্ব মানবাধিকার ভিশন’ সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের। মানবাধিকার শব্দের অর্থ ব্যাপক ও বিশাল । তাই এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের কর্ম পরিধিও বিশাল ও ব্যাপক। যেমন-

  • মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা;
  •  মানবাধিকার বিষয়ক পত্রিকা, বিভিন্ন পুস্তিকা, লিফলেট ও পোষ্টার প্রকাশনার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষকে সচেতন মনোভাব গড়ে তোলা;
  • নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষন ও পাচার প্রতিরোধে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি বা পরিবারকে আইনী সহায়তা প্রদান;
  • পারিবারিক, দাম্পত্য কলহ, নিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনী সহায়তা প্রদান;
  • শিশু শ্রমের উপর সচেতনতা বৃদ্ধি ও দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলা;
  • নির্দোষ ব্যক্তিকে আটক, থানা হাজতে নির্যাতন এবং আসামীকে ২৪ ঘন্টার বেশি সময় বে-আইনীভাবে থানায় আটক রাখার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
  • ঘুষ, দূর্নীতি ও চাকুরি-বিধি লংঘনজনিত ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
  • নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায় সর্বস্তরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা এবং সকল নাগরিকদের স্বাধীন মতামত ও ভোটাধিকার প্রয়োগে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা বজায়ে কাজ করা;
  • প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, এই লক্ষ্যে সকল নাগরিকদের সুবিধার্থে সব ধরণের তথ্য জানার অধিকারও রয়েছে। সে সকল বিষয়ে সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যে সু-সম্পর্ক ও সেতু বন্ধন তৈরিতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং মহা-সম্মেলন এর আয়োজন করা;
  •  ১৯৪৮ সনে ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকারের ধারা-উপধারা বাস্তবায়নে মানব জাতির সকল বিষয় নিয়েই ‘বিশ্ব মানবাধিকার ভিশন’ একযোগে কাজ করবে সমগ্র বিশ্বময়।
  •  এ লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে অত্র প্রতিষ্ঠানে সকল শ্রেণী পেশার সচেতন ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে শাখা কমিটি গঠন এবং তাদের ঐক্যান্তিক প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বিক ও সার্বজনীন মানবাধিকার সুরক্ষা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে আমরা মানবতাবাদী কর্মীগণ, সমগ্র বিশ্বে অগ্রণী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে প্রশংসিত হবো – ইনশাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.